দেশে বিভিন্ন কারণে ব্যাংক খাতের আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে ৯ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাস শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ১৮ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা।
ব্যাংক খাত
আওয়ামী লীগের শাসনামলে ব্যাংক খাত দুর্নীতিতে জর্জরিত ছিল। দলীয় প্রভাবশালী ও তাদের ঘনিষ্ঠরা নামে-বেনামে ঋণ নিয়ে টাকা পাচার করেছে। এখন ঋণের টাকা ফেরত দিচ্ছে না তারা। ফলে লাগামহীনভাবে বাড়ছে খেলাপি ঋণ।
আবারও রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। যা বিতরণ করা মোট ঋণের ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ।
৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বানিজ্যিক ভবনের ১৫টি ফ্লোর কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে ব্যাংক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি)।
পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য দেশের ব্যাংক খাতে একটা ফুটপ্রিন্ট রেখে যাওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
২০০৮ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে ব্যাংকিং খাত থেকে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের মাধ্যমে ৯২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
দেশের বিভিন্ন খাতে সরাসরি বিনিয়োগে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশটি ২৭১ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এরমধ্যে দেশের ব্যাংক খাতে সর্বোচ্চ ১৪১ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে যুক্তরাজ্য।
বাংলাদেশের ব্যাংক খাত গুটিকয়েক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।